অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক
শিক্ষা ও গবেষণা রায়পুরা • বাঁশগাড়ী ফিচার্ড গুণীজন

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক

Prof. Dr. AAMS Arefin Siddique
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭তম উপাচার্য ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ
জন্ম: ২৬ অক্টোবর ১৯৫৩ (বর্তমানে জীবিত)
"উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য কেবল সনদ প্রদান নয়; বরং শিক্ষার্থীদের ভেতর মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও গভীর দেশপ্রেমের উন্মেষ ঘটানোই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরম ব্রত।"

জীবনবৃত্তান্ত ও ঐতিহাসিক পটভূমি

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক (আবু আহসান মোহাম্মদ সামসুল আরেফিন সিদ্দিক) ১৯৫৩ সালের ২৬ অক্টোবর নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মেঘনা অববাহিকার বাঁশগাড়ী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নরসিংদীর চরাঞ্চলীয় জনপদে শৈশব অতিবাহিত করার পর মেধার স্বাক্ষর রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি ভারতের মহীশূর বিশ্ববিদ্যালয় ও পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং ফেলো ও পোস্ট-ডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন।

১৯৮০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং সততা, মেধা ও দূরদর্শিতার সাথে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় অধ্যাপনা করেন। ২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি একটানা ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় পৌনে নয় বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে দীর্ঘকালীন উপাচার্যদের অন্যতম।

তাঁর মেয়াদকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘস্থায়ী সেশনজট নিরসন হয়, কারিকুলাম আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর ঘটে, একাধিক নতুন অনুষদ, বিভাগ ও আধুনিক গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী একজন শিক্ষক নেতা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (ডুটা)-র সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্বও অত্যন্ত সুনামের সাথে পালন করেছেন।

উপাচার্যের দায়িত্ব সমাপনান্তে তিনি জাতীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইউনেস্কো, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি), জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটিসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফোরামে অবদান রেখেছেন। গণমাধ্যম নীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁর গবেষণামূলক বক্তব্য ও প্রকাশনা দেশে-বিদেশে সমাদৃত। নরসিংদীর রায়পুরার বাঁশগাড়ীর মাটির সন্তান হিসেবে তিনি সমগ্র নরসিংড়ীবাসীর পরম গর্ব ও অনুপ্রেরণা।

উল্লেখযোগ্য অর্জন, পদক ও সম্মাননা

• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭তম উপাচার্য (২০০৯ – ২০১৭)।
• রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান।
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (ডুটা) নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
• গণযোগাযোগ, সাংবাদিকতার নীতি ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ে দেশি ও বিদেশি পিয়ার-রিভিউড জার্নালে বহু গবেষণাপত্র ও গ্রন্থ প্রণেতা।
• বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল, পিআইবি এবং জাতীয় শিক্ষানীতি কমিটির বিশেষজ্ঞ সদস্য।
• আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম শিক্ষা পরিষদ (IAMCR) ও কমনওয়েলথ ফোরামে বাংলাদেশের সক্রিয় প্রতিনিধিত্ব।

নরসিংদী ও জাতির প্রতি অনন্য অবদান

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ সেশনজট দূর করে অ্যাকাডেমিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সাংবাদিকতা শিক্ষাকে যুগোপযোগী রূপ প্রদানে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য। নরসিংদীর সন্তান হিসেবে তিনি জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও মেধা বিকাশে সবসময় অনুপ্রেরণা জুগিয়ে আসছেন।
গুণীজনের এই জীবনী শেয়ার করুন:
ডিরেক্টরি ঘুরে দেখুন যুক্ত করুন কন্ট্রোল প্যানেল