জীবনবৃত্তান্ত ও ঐতিহাসিক পটভূমি
মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান (৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৯ – ২১ মার্চ ২০২৬) ছিলেন নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার ঐতিহাসিক বটেশ্বর গ্রামের কৃতি সন্তান, প্রত্নতত্ত্ব গবেষক, সংগ্রাহক এবং লেখক। তিনি ও তাঁর পিতা মোহাম্মদ হানিফ পাঠান যৌথভাবে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ-নগরী 'উয়ারী-বটেশ্বর' প্রত্নতাত্ত্বিক সভ্যতাকে লোকচক্ষুর অন্তরাল থেকে উদ্ধার করে বিশ্বদরবারে পরিচিত করে তোলেন।
পিতা মোহাম্মদ হানিফ পাঠানের হাত ধরেই শৈশবে প্রত্ননিদর্শন সংগ্রহের প্রতি হাবিবুল্লা পাঠানের অনুরাগের সূচনা। ১৯৩০-এর দশকে স্থানীয় কৃষকদের জমি চাষের সময় পাওয়া প্রাচীন রৌপ্যমুদ্রা ও পাথরের পুঁতি সংগ্রহের যে ধারা তাঁর পিতা শুরু করেছিলেন, হাবিবুল্লা পাঠান তা আজীবন নিরলস সাধনায় এগিয়ে নিয়ে যান। যৌবনে তিনি বটেশ্বর, উয়ারী, বেলাব ও সংলগ্ন অঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, নদীপাড় ও বিল-ঝিল থেকে প্রাচীন ছাপযুক্ত রূপার মুদ্রা, স্বল্পমূল্যবান পাথরের পুঁতি, মৃৎপাত্রের টুকরো, লৌহকুঠার এবং নব্যপ্রস্তরযুগের বাটখারা গভীর নিষ্ঠার সাথে সংগ্রহ করতে থাকেন।
প্রতিকূল পারিবারিক ও আর্থিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও তিনি সংগৃহীত এসব প্রত্নসম্পদের কোনো বাণিজ্যিক মূল্য নেননি বা কারও কাছে বিক্রি করেননি। বরং নিজ বসতভিটায় পরম মমতায় গড়ে তোলেন ব্যক্তিগত সংগ্রাহক কেন্দ্র 'বটেশ্বর প্রত্নসংগ্রহশালা'। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি দেশি-বিদেশি প্রত্নতাত্ত্বিক, গবেষক ও সাংবাদিকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে উয়ারী-বটেশ্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফলেই ২০০০ সাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সূফী মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে উয়ারী-বটেশ্বরে প্রাতিষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক খননকাজ শুরু হয়। এই খননের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দে নরসিংদীর মাটিতে গড়ে উঠেছিল এক সুপরিকল্পিত দ্বিতীয় নগরসভ্যতা ও সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র।
তিনি প্রত্নতত্ত্ব ও নরসিংদীর লোকসাহিত্য নিয়ে একাধিক আকর গ্রন্থ রচনা করেছেন। ড. সূফী মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যৌথভাবে রচিত তাঁর 'উয়ারী-বটেশ্বর: শেকড়ের সন্ধানে' গ্রন্থটি প্রত্নতত্ত্ব গবেষণায় এক অনন্য মাইলফলক। এছাড়া তাঁর একক গ্রন্থ 'প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন: উয়ারী বটেশ্বর', 'বটেশ্বর: একটি প্রাচীন জনপদ' গবেষক মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত।
লোকসাহিত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০২০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০০৯ সালে সম্মানসূচক বাংলা একাডেমি ফেলোশিপ লাভ করেন। ২০২৬ সালের ২১ মার্চ (ঈদুল ফিতরের দিন) ৮৭ বছর বয়সে নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বটেশ্বর গ্রামে নিজ বাড়িতে এই নিবেদিতপ্রাণ মনীষী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পিতা মোহাম্মদ হানিফ পাঠানের হাত ধরেই শৈশবে প্রত্ননিদর্শন সংগ্রহের প্রতি হাবিবুল্লা পাঠানের অনুরাগের সূচনা। ১৯৩০-এর দশকে স্থানীয় কৃষকদের জমি চাষের সময় পাওয়া প্রাচীন রৌপ্যমুদ্রা ও পাথরের পুঁতি সংগ্রহের যে ধারা তাঁর পিতা শুরু করেছিলেন, হাবিবুল্লা পাঠান তা আজীবন নিরলস সাধনায় এগিয়ে নিয়ে যান। যৌবনে তিনি বটেশ্বর, উয়ারী, বেলাব ও সংলগ্ন অঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, নদীপাড় ও বিল-ঝিল থেকে প্রাচীন ছাপযুক্ত রূপার মুদ্রা, স্বল্পমূল্যবান পাথরের পুঁতি, মৃৎপাত্রের টুকরো, লৌহকুঠার এবং নব্যপ্রস্তরযুগের বাটখারা গভীর নিষ্ঠার সাথে সংগ্রহ করতে থাকেন।
প্রতিকূল পারিবারিক ও আর্থিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও তিনি সংগৃহীত এসব প্রত্নসম্পদের কোনো বাণিজ্যিক মূল্য নেননি বা কারও কাছে বিক্রি করেননি। বরং নিজ বসতভিটায় পরম মমতায় গড়ে তোলেন ব্যক্তিগত সংগ্রাহক কেন্দ্র 'বটেশ্বর প্রত্নসংগ্রহশালা'। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি দেশি-বিদেশি প্রত্নতাত্ত্বিক, গবেষক ও সাংবাদিকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে উয়ারী-বটেশ্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফলেই ২০০০ সাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সূফী মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে উয়ারী-বটেশ্বরে প্রাতিষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক খননকাজ শুরু হয়। এই খননের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দে নরসিংদীর মাটিতে গড়ে উঠেছিল এক সুপরিকল্পিত দ্বিতীয় নগরসভ্যতা ও সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র।
তিনি প্রত্নতত্ত্ব ও নরসিংদীর লোকসাহিত্য নিয়ে একাধিক আকর গ্রন্থ রচনা করেছেন। ড. সূফী মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যৌথভাবে রচিত তাঁর 'উয়ারী-বটেশ্বর: শেকড়ের সন্ধানে' গ্রন্থটি প্রত্নতত্ত্ব গবেষণায় এক অনন্য মাইলফলক। এছাড়া তাঁর একক গ্রন্থ 'প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন: উয়ারী বটেশ্বর', 'বটেশ্বর: একটি প্রাচীন জনপদ' গবেষক মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত।
লোকসাহিত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০২০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০০৯ সালে সম্মানসূচক বাংলা একাডেমি ফেলোশিপ লাভ করেন। ২০২৬ সালের ২১ মার্চ (ঈদুল ফিতরের দিন) ৮৭ বছর বয়সে নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বটেশ্বর গ্রামে নিজ বাড়িতে এই নিবেদিতপ্রাণ মনীষী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
উল্লেখযোগ্য অর্জন, পদক ও সম্মাননা
• বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০২০) — প্রবন্ধ ও গবেষণা শাখা।
• বাংলা একাডেমির সম্মানসূচক ফেলোশিপ (২০০৯)।
• উয়ারী-বটেশ্বর প্রাচীন দুর্গ-নগরী আবিষ্কার ও সংগ্রাহক হিসেবে আজীবন অনন্য অবদান।
• ড. সূফী মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যৌথভাবে গবেষণামূলক গ্রন্থ 'উয়ারী-বটেশ্বর: শেকড়ের সন্ধানে' রচনা।
• প্রকাশিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 'প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন: উয়ারী বটেশ্বর', 'বটেশ্বর: একটি প্রাচীন জনপদ' এবং নরসিংদীর লোকজ ঐতিহ্য বিষয়ক সংকলন।
• রবীন্দ্র একাডেমি পদকসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সম্মাননা ও সংবর্ধনা।
• বাংলা একাডেমির সম্মানসূচক ফেলোশিপ (২০০৯)।
• উয়ারী-বটেশ্বর প্রাচীন দুর্গ-নগরী আবিষ্কার ও সংগ্রাহক হিসেবে আজীবন অনন্য অবদান।
• ড. সূফী মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যৌথভাবে গবেষণামূলক গ্রন্থ 'উয়ারী-বটেশ্বর: শেকড়ের সন্ধানে' রচনা।
• প্রকাশিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 'প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন: উয়ারী বটেশ্বর', 'বটেশ্বর: একটি প্রাচীন জনপদ' এবং নরসিংদীর লোকজ ঐতিহ্য বিষয়ক সংকলন।
• রবীন্দ্র একাডেমি পদকসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সম্মাননা ও সংবর্ধনা।
নরসিংদী ও জাতির প্রতি অনন্য অবদান
বাঙালি জাতির ইতিহাসের শেকড় যে আড়াই হাজার বছর পূর্বেও বিশ্ব সভ্যতার সাথে সমান্তরালে বিকশিত হয়েছিল, তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণে মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠানের একক অধ্যবসায় ও সংগ্রহ চিরস্মরণীয়। তাঁর সংগৃহীত প্রত্নভাণ্ডার ও পথপ্রদর্শন ছাড়া উয়ারী-বটেশ্বর সভ্যতা কখনোই প্রাতিষ্ঠানিক খননের আলো দেখত না। নরসিংদীকে প্রত্নতাত্ত্বিক মানচিত্রে বিশ্বনন্দিত স্থানে উন্নীত করায় তাঁর অবদান চিরভাস্বর।
গুণীজনের এই জীবনী শেয়ার করুন: