রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধি শিবপুর • ধানুয়া ফিচার্ড গুণীজন

শহীদ আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (শহীদ আসাদ)

Shaheed Amanullah Mohammad Asaduzzaman (Shaheed Asad)
১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মহান শহীদ ও ছাত্রনেতা
জীবনকাল: ১০ জুন ১৯৪২ হতে ২০ জানুয়ারি ১৯৬৯
"আসাদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না; স্বৈরাচারের পতন এবং গণমানুষের মুক্তিসংগ্রাম অনিবার্য।"

জীবনবৃত্তান্ত ও ঐতিহাসিক পটভূমি

শহীদ আসাদুজ্জামান ১৯৪২ সালের ১০ জুন নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শিবপুর হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে এমএ শ্রেণীতে অধ্যয়ন করেন। তিনি ঢাকা হল (বর্তমান ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল) ছাত্র সংসদের ভিপি এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের অন্যতম কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন।

১৯৬৯ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফার ঐতিহাসিক আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে। ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রদের বিশাল মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সম্মুখভাগে থাকা আসাদ গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। আসাদের এই রক্তদান সমগ্র দেশকে ক্ষোভে উদ্দীপ্ত করে এবং তীব্র গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়ে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পতন ঘটায়। শিবপুরের ধানুয়া গ্রামে তাঁর পারিবারিক কবরস্থানে তিনি শায়িত রয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য অর্জন, পদক ও সম্মাননা

• স্বাধীনতা পদক (মরণোত্তর)।
• ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিতে ঢাকায় "আসাদ গেট" এবং "আসাদ এভিনিউ" নামকরণ।
• প্রতি বছর ২০ জানুয়ারি জাতীয়ভাবে "শহীদ আসাদ দিবস" হিসেবে পালিত হয়।
• নরসিংদীর শিবপুরে শহীদ আসাদ কলেজ প্রতিষ্ঠিত।

নরসিংদী ও জাতির প্রতি অনন্য অবদান

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় শহীদ আসাদের আত্মদান ছিল একটি প্রধান ঐতিহাসিক বাঁক। নরসিংদীর মাটিতে জন্ম নেওয়া এই বিপ্লবীর রক্তে বাঙালি জাতি মুক্তির চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়েছিল।
গুণীজনের এই জীবনী শেয়ার করুন:
ডিরেক্টরি ঘুরে দেখুন যুক্ত করুন কন্ট্রোল প্যানেল