ঈদ পুনর্মিলনীতে মিললো রায়পুরা অফিসার্স ফোরাম, উদযাপিত হলো অর্জন

নরসিংদী জেলার রায়পুরা অফিসার্স ফোরাম (অফোরান)-এর উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ পুনর্মিলনী ও অর্জন উদযাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর তথ্য ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের তিন শতাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রায়পুরার কৃতি সন্তানদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন, এনডিসি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের প্রধান মেজর জেনারেল মো. হাসানুজ্জামান, শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিচালক মো. জাকির হোসেন, বিসিক চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ হুমায়ুন কবির এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আলিফ রুবায়েত।
বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোলায়মান মিয়া ও রূপালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার আশরাফুল ইসলাম চঞ্চলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইস্পাত কর্পোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল হক ভূঁইয়া এনডিসি, মাউশির প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর এ এস এম এমদাদুল কবীরসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পদস্থ কর্মকর্তারা।
বক্তারা একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য রায়পুরা গড়ে তুলতে সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা অতীতে এলাকায় সংঘটিত মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ বালু উত্তোলন ও ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলকে রায়পুরা অফিসার্স ফোরামের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে বিভিন্ন পেশায় পদোন্নতিপ্রাপ্ত ও বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৩৪ জন গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, রায়পুরাবাসীর সার্বিক উন্নয়নই তার একমাত্র লক্ষ্য। তিনি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও দুর্নীতিসহ সব ধরনের নৈরাজ্য নির্মূলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উপজেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে মেঘনা নদীতে সেতু নির্মাণ, ৬ লেনের সড়ক উন্নয়ন এবং রায়পুরার সঙ্গে নবীনগর হয়ে কুমিল্লার সরাসরি সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিন এলাকায় বিভেদ ও সংঘাত উসকে দিয়ে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করা হয়েছে। এখন সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি শান্তিময় ও সমৃদ্ধ রায়পুরা গড়ে তোলার।
এক আবেগঘন ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সুর-লয়ে অনুষ্ঠানটির পরিসমাপ্তি ঘটে।
